সূচকে ঊর্ধ্বমুখিতা

পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে ১৩ শতাংশ

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে।

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৩ শতাংশের বেশি। ডিএসইর সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯৬ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, গত সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৫১৮ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৫৭ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ২২ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ২০৭ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৯১টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৪৩টির, কমেছে ১২৬টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২২টির। আর লেনদেন হয়নি ২২টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ ও প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৬ হাজার ৪৯১ কোটি ৭৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যেখানে ছিল ৫ হাজার ৭২৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটিতে দৈনিক গড় লেনদেন বেড়েছে ১৩ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে গত সপ্তাহে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল।

খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ওষুধ ও রসায়ন খাতের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষ অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ দখলে নিয়েছে ব্যাংক খাত। ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে বস্ত্র খাত। চতুর্থ অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আর ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার পঞ্চম অবস্থানে ছিল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে সাতটি খাত বাদে সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। এছাড়া জীবন বীমা খাতে ৯ দশমিক ৭৪ ও সিরামিক খাতে ৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে সিমেন্ট খাতে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ১৯ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া করপোরেট বন্ড খাতে দশমিক ৯৫ এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে দশমিক ৯০ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে ২ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৭০২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৩৫৭ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে ২ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৬৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৯ হাজার ৪৪৫ পয়েন্ট।

সিএসইতে গত সপ্তাহে ১০০ কোটি ২৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১২৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৩০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২০৬টির, কমেছে ৯৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির বাজারদর।

আরও